ভাবতে পারিনি উইকেট এত নিষ্প্রাণ: মুশফিক
সিদ্ধান্তটির পর থেকেই সেটি নিয়ে সমালোচনার শুরু। টেস্টের ৫ দিন জুড়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে ধারাভাষ্য কক্ষে, বাইরে। টেস্ট শেষ হওয়ার পরপরও ধারাভাষ্য কক্ষে মাইক হেইসম্যান বললেন, “ভুলে যাবেন না, নিষ্প্রাণ উইকেট টস জিতেও বোলিং নিয়েছিল বাংলাদেশ, যেটি ছিল গুরুতর ভুল।” কিভাবে হলো অমন গুরুতর ভুল?
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও মুশফিকুর রহিমকে শুরুতে একই প্রশ্ন করলেন শন পোলক। মুশফিকের উত্তর, “ভাবতে পারিনি উইকেট এতটা নিষ্প্রাণ হবে।”
পরে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক জানালেন, টসে জিতে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্মিলিত।
“আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিই। দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে এমন উইকেট পাব, আমাদের জন্য অনুমান করা কঠিন। এমন উইকেট আমরা কখনও দেখি নাই। প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছি আমরা ভিন্ন উইকেটে। তাছাড়া উইকেট যত ফ্ল্যাট হোক না কেন, যদি কোনো সহায়তা পান সেটা প্রথম এক ঘণ্টা বা দুই ঘণ্টায় পাওয়ার কথা।”
অধিনায়কের দাবি, বাংলাদেশ আরও ভালো ব্যাট করতে পারলে টসের সিদ্ধান্ত এতটা প্রশ্নবিদ্ধ হতো না।
“আমরা চেষ্টা করেছিলাম। যখন প্রথম ইনিংসে ব্যাট করি, সেটা ব্যাটিংয়ের জন্য সবচেয়ে ভালো সময় ছিল। কিন্তু চারশ-পাঁচশ রান কিন্তু আমরা করতে পারিনি। আপনি বলতে পারেন না, টস জিতে ব্যাটিং করে আমরা পাঁচশ রান করতে পারতাম। যদি ঠিকভাবে খেলতে পারতাম, তাহলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিন আমরা যখন ব্যাটিং করেছি, তখন অনেক ভালো স্কোর করতে পারতাম।”
দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে একদম দেশের মতো উইকেট পাওয়া সৌভাগ্যের, সেটি অবশ্য মানছেন মুশফিক। আক্ষেপও করছেন সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায়।
“এখানে এমন কোনো উইকেট ছিল না যেটা আনপ্লেয়েবল। দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে এমন উইকেট পাব, সেটা কখনও কল্পনাতেও ছিল না। আমার মনে হয়, আমাদের সামনে খুব ভালো সুযোগ ছিল। যদি প্রথম ইনিংসের মতো লড়াই করে দ্বিতীয় ইনিংসেও একটা স্কোর করতে পারতাম, তাহলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটা মানদণ্ড হত।”
“যদি স্কিলের দিক থেকে আর মানসিকতার দিক থেকে আরও দৃঢ় হতে পারতাম, সাহসী হতে পারতাম, তাহলে হয়তো ভালোভাবে সামলাতে পারতাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা পারিনি। এর দায় ব্যাটসম্যানদের। অনেক দিন পর একটা টেস্ট দেখলাম যেখানে আমরা হারার আগেই হেরে গেছি।”
অধিনায়ক নিজেও বুঝতে পারছেন না, কেন এতটা বাজেভাবে হেরেছে দল। তবে আশাবাদ জানালেন পরের টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর।
“আমি জানি না, এটা কেন হল। সবাই চেষ্টা করেছে। কিন্তু এভাবে চেষ্টা করলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে। আর বেশি বেশি করে চেষ্টা করতে হবে। গত তিন বছরে আমরা যে সম্মানটা অর্জন করতে পেরেছি, সেটা যেন না হারাই। এটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ পরের টেস্টে। আশা করি, সেটায় উতরাতে পারব।”
Leave a Comment